কুরআন বুঝে তিলাওয়াত করার চেষ্ঠা করুন

কুরআন পড়া

কুরআন মাজীদ সমগ্র মানব জাতির হেদায়েতের জন্যই অবতীর্ণ করা হয়েছে। এতে আল্লাহ তা‘আলা তাওহীদ (একাত্ববাদ), রিসালাত (ইসলামের বার্তা) ও আখেরাতের কথা বারবার বলেছেন; যাতে প্রত্যেকটি মুমিন তা পড়ে, শ্রবণ করে এবং অনুধাবন করে; অতঃপর তাতে গভীর ভাবে চিন্তা-ফিকির করে। আর এভাবেই মুমিনের ঈমান মজবুত হয় এবং পূর্ণতা লাভ করে।

তাছাড়া কুরআনে ইসলামের বিধি-বিধান নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সুতরাং প্রত্যেক মুমিনের জন্য কুরআন পড়া, অনুধাবন করা এবং এত গভীরভাবে চিন্তা-ফিকির করা অতীব জরুরী। আল্লাহ তা‘আলা সূরা আল ক্বামারের ১৭,২২,৩২ ও ৪০ নম্বর আয়াতে পুনঃপুনঃ ইরশাদ করেছেন- ‘আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণ করার জন্য। কে আছে উপদেশ গ্রহণকারী’?

কুরআন পাঠ করা, অনুধাবন করার চেষ্টা করা সকল মুমিনের অপরিহার্য কর্তব্য।

এ বিষয়ে সমাজে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে।  এ সম্পর্কে শাহ ইসমাঈল মহীদ রহ. এর একটি সারগর্ভ বক্তব্যের সারাংশ তুলে ধরছি। তিনি লিখেন- “সমাজে প্রচলিত আছে যে, ‘কুরআন অত্যন্ত কঠিন, দুর্বোধ্য। সাধারণ মানুষ তা বুঝার ক্ষমতা রাখে না। বরং কুরআন বুঝার জন্য গভীর জ্ঞানের প্রয়োজন। তাই কেবল আলেমরাই কুরআন বুঝার ক্ষমতা রাখেন। সাধারণরা পূর্বপুরুষদের অনুসরণে ও অন্যদের দেখে দেখেই  আমল করবে’।

জ্ঞানী মাত্রই অবগত আছেন যে, এ কথাটি নিতান্তই ভুল। কারণ আল্লাহ তা‘আলা স্বয়ং বলেছেন তাঁর কিতাব সুস্পষ্ট।

তিনি ইরশাদ করেন-

‘আপনার কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নাযিল করেছি। কাফেরগণ ব্যতীত কেউ তা অস্বীকার করে না’। (সূরা বাকারা-৯৯)

এতে বুঝা যায় কুরআন কঠিন কিছু নয়। যারা কুরআন অনুযায়ী চলতে চায় না, তারাই মূলত কুরআনকে কঠিন বলে এড়িয়ে চলতে চায়।

বরং সাধারণের জন্য আল্লাহ তা‘আলার কালাম বুঝা গভীর জ্ঞান ও প্রখর মেধার উপর নির্ভরশীল নয়। তিনি নবীদেরকে তাঁর বানী দিয়ে প্রেরণ করেছেন পথভ্রষ্ট অজ্ঞ-মুর্খদের হেদায়াতের জন্যই। বস্তুত কুরআন অজ্ঞ-মুর্খদের জ্ঞানী ও নেককার বানানোর কাজ করে।

তাদের এ কথা শয়তানের একটি প্রতারণা।ইদাহরণ স্বরূপ বরা চলে করআন যেন একজন অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ ডাক্তার। এক দেশে অসংখ্য রোগ-ব্যাধী ছড়িয়ে আছে। এক মুমূর্ষ রোগীকে বলা হল- যাও এ ডাক্তাররের পরামর্শ গ্রহণ কর। সে উত্তরে বলল- ‘আমি তো রোগে-শোকে চরম অবস্হায় পতিত। তার চিকিঃসা সেবা গ্রহণ করার কোন যোগ্যতা আমার নেই। তার কাছে তো যাবে সুস্হ-সবল ব্যক্তিরা। যার কোন রোগ নেই।’ বলুন, এমন ব্যক্তিকে লোকে কী বলবে??!! ডাক্তার যদি সুস্হ মানুষেরই কাজে আসে তবে সে কিসের ডাক্তার????!!!!!

তাই যাদের ঈমান রোগগ্রস্ত, যারা অজ্ঞ-মুর্খ; কুরআন বুঝার প্রয়োজন তাদেরই বেশী। যাদের পাপ বেশি তাদেরই উচিত কুরআনের প্রতি বেশি মনোযোগী হওয়া।” (রেসালাতুত তাউহিদ পৃ-২১-২৩)

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE