মাযহাব কী এবং তাকলীদ কাকে বলে?

আপনারা যদি “ফিকহের” পরিচয় পেয়ে থাকেন তবে এবার আরো একটা বিষয় লক্ষ্য করুন। আমরা ইতিমধ্যেই শুনেছি যে কুরআন-সুন্নাহর হুকুম-আহকামের সুবিন্যস্ত সংকলনই হচ্ছে “ফিকহ”। এই “ফিকহের” একাধিক সংকলন বিদ্যমান ছিল, যার মধ্যে বর্তমান কাল পরযন্ত সুধু চারটি সংকলনই স্হায়ীত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। সেই সংকলনগুলো হচ্ছে-

১. “ফিকহে হানাফী”- যার সংকলনের ভিত্তি স্হাপনের কাজটি ইমাম আযম আবু হানীফা (রহ.)  (জন্ম ৮০ হিজরী- মৃত্যু ১৫০ হিজরী) এর হাতে সুসম্পন্ন হয়েছে।
২. “ফিকহে মালেকী”- যার সংকলনের ভিত্তি স্হাপিত হয়েছে ইমাম মালেক  (রহ.) (জন্ম ৯৪০ হিজরী- মৃত্যু ১৭৯ হিজরী) এর হাতে ।
৩. “ফিকহে শাফেয়ী”- ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস শফেয়ী (রহ.) ((জন্ম ১৫০ হিজরী- মৃত্যু ২০৪ হিজরী) যার ভিত্তি রেখেছেন।
৪. “ফিকহে হাম্বলী”- ইমাম আহমেদ ইবনে হাম্বল (রহ.) (জন্ম ১৬৪ হিজরী- মৃত্যু ২৪১ হিজরী) এর ভিত্তি রেখেছেন।

সাধারণ পরিভাষায় ফিকহের প্রত্যেকটি সংকলণ “মাযহাব” নামে পরিচিত। বলা বাহুল্য এখানে “মাযহাব” শব্দটির অর্থ  “ফিকহে মাযহাব” তথা ফিকহের নির্দিষ্ট একটি সংকলন। এখানে “মাযহাব” অর্থ দ্বীন বা আকাইদ বিষয়ে মতবিরোধকারী কোন “ফির্কা” নয়। কেননা ফেকহের এই মাযহাবগুলোর প্রতিটিই দ্বীন ইসলাম এবং শরীয়তের অধীন এবং শরীয়ত অনুযায়ী চলারই একাধিক পথ। এই মাযহাবের ইমামগণ সবাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদার উপরই ছিলন এবং সব ধরনের ভ্রান্ত আকীদা থেকে মুক্ত ছিলেন। তাদের অনুসারীরা সবাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মত ও পথেরই অনুগামী। তবে বিভিন্ন সময় এমন হয়েছে যে, আকীদাগতভাবে বিভ্রাস্ত বিদআতী লোকেরা ফিকহের ক্ষেত্রে এসে উপরোক্ত চার মাযহাবের কোন একটির অনুসারী হয়েছে, বলা বাহুল্য, তাদের বিদআতী আকীদা বিশ্বাসের কোন দায়-দায়িত্বই তাদের; মাযহাবের ইমাম, তাদের সংকলিত ফিকহ, এবং তাদের অনুসারীদের ইপর বর্তায় না।

মাযহাব” অর্থ: এই ফিকহী মাযহাবের মাধ্যমে কুরআন-হাদীসের আহকাম জানা এবং তদনুযায়ী আমাল করাকে সাধারণ পরিভাষায়  “তাকলিদ” বলে। অর্থাৎ, দ্বীন ও শরীয়তের ক্ষেত্রে ফকীহগণের শরনাপন্ন হওয়ার যে আদেশ মহান আল্লাহ তাঁর  বান্দাদেরকে করেছেন, এবং নবীয়ে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াসাল্লাম তাঁর  উম্মতকে করেছেন তাদেরই  সংকলিত ফিকহ থেকে কুরআন-হাদীসের হুকুম জেনে সে অনুযায়ী আমল করাকেই সাধারণ পরিভাষায় “তাকলীদ,” বা “মাযহাব মানা” কিংবা ”ফিকহ অনুসরণ করা” বলে।

আপনি যদি ফিকহের পরিচয় পেয়ে তাকেন তাহলে আপনাকে আর বলে দেওয়ার প্রয়োজন হবে না যে, “তাকলীদ” বৈধ কি অবৈধ বা ফিকহ অনুযায়ী আমল করার বিধান কি? কিংবা কোন ফিকহী মাযহাবের অনুসরণ কার ভালো না মন্দ? ফিকহের পরিচয় জানার  সাথে সাথেই এ বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, কুরআন-হাদীস অনুসরণ করার সঠিক সহজ এবং নিরাপদ পথটি হল, ফিকহের আলোকে, ফুকাহায়ে  কেরামের নির্দেশনা অনুযায়ী আমল কার। সহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে আজ পরযন্ত মুসলিম উম্মাহর মধ্যে এই পদ্ধতিই সর্বজন স্বীকৃত ও অনুসৃত।

উৎস: মাওলানা আব্দুল মালিক ছাহেবের ভূমিকা,  “মাযহাব ও তাকলীদ কি ও কেন”

2 Comments

  1. হানাফী

    সুন্দর উস্থাপনা;;
    আপনাদের জানাই ধন্যবাদ।
    একটি কথা বলতে চাই তা হলোঃ
    লেখাটি আবার Edit বা সম্পাদনা করলে ভালো হয়
    লেখাটির কিছু কিছু জায়গায় বানানগত ভুল দেখাচ্ছে। ধন্যবাদ

    Reply
    1. admin (Post author)

      পরামর্ষের জন্য ধন্যবাদ।
      পূর্বের অংশটুকু এর সাথে জুড়ে দিবো ইনশাআল্লাহ

      Reply

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE