জাল হাদীসের কবলে রাসূলের সালাত নাকি মুযাফ্ফরের কবলে-৪

পূর্ববর্তী অংশসমূহ:
জাল হাদীসের কবলে রাসূলের সালাত নাকি মুযাফ্ফরের কবলে-১
জাল হাদীসের কবলে রাসূলের সালাত নাকি মুযাফ্ফরের কবলে-২
জাল হাদীসের কবলে রাসূলের সালাত নাকি মুযাফ্ফরের কবলে-৩

মুহতারাম,

লেখকের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে বলছি যে, হেদায়া কিতাবটি বুঝতে লেখকের একটুখানি স্খলন ঘটে গেছে। কারণ, হেদায়া প্রণেতা সালাত অধ্যায়ে প্রথমে সালাতের মূল ওয়াক্তের বিবরণ দান করেছেন। কোন সালাতের ওয়াক্ত কখন শুরু হয় আর কখন শেষ হয় তার বিবরণ দান করেছেন। বলেছেন :

أول وقت الفجر إذا طلع الفجرالثانى وهو البياض المعترض فى الأفق و آخر وقتها مالم تطلع الشمس

এইভাবে প্রতিটি সালাতের শুরু ও শেষ ওয়াক্ত বর্ণনা করার পর তিনি ভিন্ন অনুচ্ছেদে প্রতিটি সালাতের মুস্তাহাব ওয়াক্তের বিবরণ দান করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ويستحب الإسفار بالفجر ‘এবং মুস্তাহাব হল ফজরকে ইসফার করা।’ লেখকের মন্তব্য দ্বারা বোঝা যায় যে, হেদায়া প্রণেতা পরষ্পর বিরোধী দুইটি কথা বলেছেন। অথচ কোনোটির সাথে কোনোটির বিরোধ নেই। তাছাড়া লেখক বলেছেন. হেদায়া কিতাবে প্রথম আলোচনায় সঠিক সময় উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু……।

প্রশ্ন হল, লেখক তো ফজরের মুস্তাহাব ওয়াক্ত নিয়ে আলোচনা করছেন। এ প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলছেন, হেদায়া কিতাবে প্রথমে সঠিক সময় উল্লেখ করা হয়েছে। তাহলে কি লেখকের মতে ফজরের
মুস্তাহাব ওয়াক্ত সুবহে সাদেক থেকে শুরু করে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত? সুবহানাল্লাহ! একমাত্র আল্লাহ তাআলাই সকল দোষ ত্রুটি হতে মুক্ত। লেখক তাঁর নিজের রচিত জালেই আটকে গেলেন।

লেখক বলছেন, উক্ত হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা করে বলা হয় যে, ফর্সা হওয়ার পর ফজরের ছালাত শুরু করতে হবে। কারণ এটাই সর্বোত্তম। এরপর তিনি হেদায়ার প্রসঙ্গ টানার পর বলেছেন, অথচ উক্ত ব্যাখ্যা চরম বিভ্রান্তিকর এবং ছহীহ হাদীসের প্রকাশ্য বিরোধী। কারণ,-

(ক) ইমাম তিরমিযী (২০৯-২৭৯ হিঃ) উক্ত হাদীস বর্ণনা করে বলেন,

قَالَ الشَّافِعِىُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ مَعْنَى الْإِسْفَارِ أَنْ يَّضِحَ الْفَجْرُ فَلَا يُشَكُّ فِيْهِ وَلَمْ يَرَوْا أَنَّ مَعْنَى الْإِسْفَارِ تَأْخِيْرُ الصَّلَاةِ

ইমাম শাফেঈ, আহমাদ ও ইসহাক্ব বলেন, ‘ইসফার’ হল, ফজর প্রকাশিত হওয়া, যাতে কোন সন্দেহ না থাকে। তারা কেউ বর্ণনা করেননি যে, ইসফার অর্থ ছালাত দেরী করে পড়া।

পর্যালোচনা:

দেখুন, লেখক দাবী করছেন উক্ত ব্যাখ্যা চরম বিভ্রান্তিকর এবং সহীহ হাদীসের প্রকাশ্য বিরোধী। কীভাবে সহীহ হাদীসের প্রকাশ্য বিরোধী হল তার কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি ইমাম তিরমিযী কর্তৃক উদ্ধৃত ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের ব্যাখ্যার উল্লেখ করেছেন অতঃপর ইমাম তাহাবী ও শায়খ আলবানীর বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। কোনো সহীহ হাদীসের উদ্ধৃতি তিনি পেশ করেননি। তিনি সূক্ষ্মভাবে ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের ব্যাখ্যা এবং ইমাম তাহাবী ও শায়খ আলবানীর বক্তব্যকে সহীহ হাদীস বলে চালিয়ে দিলেন। লেখকের ধারণায়, পাঠক তাঁর এই সূক্ষ্ম কৌশল অনুধাবন করতে পারবে না। এটা পাঠককে অবমূল্যায়ণ করার শামিল। আর আমানতের খিয়ানতের প্রশ্ন তো থেকেই যায়। তাছাড়া কারও বক্তব্যকে, কারও ব্যাখ্যাকে হাদীস বলা, তাও আবার সহীহ হাদীস? নাউযুবিল্লাহ। এটা তো হাদীস জাল করার নামান্তর।

ইমাম তিরমিযী রাহ. রাফে‘ ইবন খাদীজের রা. হাদীসটি উল্লেখ করার পর যা বলেছেন লেখক তার অর্ধেক উদ্ধৃত করেছেন আর অর্ধেক গোপন করে গেছেন। ইমাম তিরমিযীর পুরো কথাটি এইরূপ :

وَقَدْ رَأَى غَيْرُ وَاحدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى الله عليه و سلم وَالتَّابِعِيْنَ اَلْإِسْفَارَ بِصَلَاةِ الْفَجْرِ وَبِهِ يَقُوْلُ سُفْيَانُ الثَّوْرِي وَقَالَ الشَّافِعِيُّ وَ أَحْمَدُ وَ إِسْحقُ مَعْنَى الْإِسْفَارِ أَنْ يَّضِحَ الْفَجْرُ فَلَا يُشَكُّ فِيْهِ وَلَمْ يَرَوْا أَنَّ مَعْنَى الْإِسْفَارِ تَأْخِيْرُ الصَّلَاةِ

অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের মধ্য হতে এবং তাবেঈগনের মধ্য হতে একাধিক আহ্লে ইল্ম সাহাবী ও তাবেঈ ইসফার বিল ফাজ্র তথা ফজরকে ফর্সা করে আদায় করার মত পোষণ করেছেন। সুফ্ইয়ান সাওরীও এই মত ব্যক্ত করেন এবং ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক্ব বলেন… (উপরে দেখুন)

আসল ব্যাপার হল, ইমাম তিরমিযী রাহ. প্রথমে একটি অনুচ্ছেদে তাগলীস বিল ফাজর সংক্রান্ত হাদীস উল্লেখ করে ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের মত উল্লেখ করেছিলেন যে, তাঁরা তাগলীস বিল ফাজরকে মুস্তাহাব বলেন। অতঃপর পরবর্তী অনুচ্ছেদে তিনি ইসফার বিল ফাজর সংক্রান্ত হাদীস উল্লেখ করে বললেন যে, একাধিক সাহাবী ও তাবিঈ – যাঁরা ইলমের অধিকারী- ইসফার বিল ফাজরের পক্ষে মত পোষণ করেন। এদিকে ইসফার বিল ফাজর সংক্রান্ত হাদীসটি যেহেতু ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের মতের বিপক্ষে যায় সেহেতু তাঁদের নিকট এই হাদীসের কী ব্যাখ্যা আছে তা জানান দেওয়ার জন্য ইমাম তিরমিযী তাঁদের কৃত ব্যাখ্যাটি এখানে উল্লেখ করে দিলেন।

একাধিক আহলে ইলম সাহাবী ও তাবিঈ ইসফার বিল ফাজরকে মুস্তাহাব বলে মনে করেন। একাধিক অর্থ দুই চারজন নয়। দুই চারজন হলে ইমাম তিরমিযী তাঁদের নাম উল্লেখ করে দিতেন, যেমনটা উল্লেখ করেছেন তাগলীস বিল ফাজরের পক্ষে মত পোষণকারীগণের নাম। غير واحد বা একাধিক বলে সাধারণত প্রচুর সংখ্যক বোঝানো হয়। তাগলীস বিল ফাজরের পক্ষে মত পোষণকারী কোনো সাহাবী আছে কি নাই বা থাকলে তাদের সংখ্যা কী পরিমান সেটি ভিন্ন বিষয়। আমাদের আলোচনা চলছে ইমাম তিরমিযীর মন্তব্য নিয়ে। তো ইমাম তিরমিযীর বক্তব্য অনুযায়ী বহু সংখ্যক সাহাবী ও তাবিঈ ইসফার বিল ফাজরের প্রবক্তা। আমাদের দেশে বা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় যাঁরা ফজরকে ইসফার তথা ফর্সা করে আদায় করাকে মুস্তাহাব বলে জ্ঞান করেন এবং সেই অনুযায়ী আমল করেন লেখকের বক্তব্য মতে তাঁরা যদি জাল হাদীসের ভিত্তিতে এবং সহীহ হাদীসের অপব্যাখ্যা করে এরূপ আমল করেন তাহলে ঐ সকল সাহাবী ও তাবিঈগণও কি জাল হাদীস অনুযায়ী আমল করতেন? তাঁরাও কি সহীহ হাদীসের অপব্যাখ্যা করে ইসফার বিল ফাজর করতেন? নাউযুবিল্লাহ। কথা বলতে বা লিখতে অসাবধানতাবশত ভুল হতেই পারে। কিন্তু তারও একটা মাত্রা থাকা উচিত। নইলে সেটাকে অসাবধানতাজনিত ভুল বলা যাবে না, ইচ্ছাকৃত জালিয়াতি ও ধৃষ্টতা বলতে হবে।

ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক্ব (রাহিমাহুমুল্লাহ) রাফে‘ ইবন খাদীজ রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের যে ব্যাখ্যা করেছেন সে সম্পর্কেও কিছু কথা আছে। তা যথাস্থানে আলোচিত হবে ইনশাআল্লাহ। লেখক এরপরে ইমাম তাহাবী ও শায়খ আলবানীর বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। ইমাম তাহাবীর দুটি বক্তব্যের প্রথমটির অনুবাদ করতে গিয়ে লেখক বন্ধনী যুক্ত করে লিখেছেন, (উক্ত হাদীছের অর্থ হল)…। না, বক্তব্যটি হাদীসের অর্থ বা ব্যাখ্যা নয়। বরং এটি ইমাম তাহাবীর সিদ্ধান্ত। তিনি তাগলীস বিল ফাজর ও ইসফার বিল ফাজর সংক্রান্ত হাদীসসমূহের উপর পর্যালোচনা করার পর এই সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করেছেন। হাঁ উদ্ধৃত দ্বিতীয় বক্তব্যটিতে ইমাম তাহাবী হাদীসের অর্থ ও মর্ম ব্যক্ত করেছেন। ইমাম তাহাবী রাহ. ও শায়খ আলবানী রাহ. উভয়ই ইসফার বিল ফাজর ও তাগলীস বিল ফাজর সংক্রান্ত সব হাদীসের আলোকে মত ব্যক্ত করে যা বলেছেন তার সার কথা হল, ফজরের সালাত শুরু করা উচিত অন্ধকারে এবং কিরাআত লম্বা করে শেষ করা উচিত ফর্সায়। এখানে লক্ষণীয় যে, ইমাম তাহাবী ও শায়খ আলবানী রাহ. কিন্তু ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের ব্যাখ্যাকে গ্রহণ করেননি।

লেখক এরপর ফজর ছালাতের সঠিক সময় শিরোনাম দিয়ে লিখেছেন, রাসূল (ছাঃ) কোন্ সময়ে ফজরের ছালাত আদায় করতেন , তা নিমেণর হাদীছগুলোতে বর্ণিত হয়েছে। যে সকল হাদীস এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন সেগুলো বাহ্যত প্রমাণ করে যে, তাগলীস বিল ফাজর তথা অন্ধকারে ফজরের সালাত শুরু করা এবং অন্ধকার থাকতেই সালাত শেষ করা মুস্তাহাব। কিন্তু লেখক স্পষ্ট করেননি যে, তিনিও এইরূপ মত পোষণ করেন ও তদনুযায়ী আমল করেন, না তিনি ইমাম তাহাবী ও শায়খ আলবানী রাহ. যা বলেছেন সেইরূপ মত পোষণ করেন ও তদনুযায়ী আমল করেন। ইসফার বিল ফাজর-এর প্রবক্তাগণের ব্যাখ্যা যে অপব্যাখ্যা তা প্রমাণ করতে তিনি তো তাহাবী ও আলবানী (রাহিমাহুমাল্লাহ) -এর ব্যাখ্যাকেই পেশ করেছেন। বোঝা যায় যে, তাঁদের ব্যাখ্যাটি তাঁর নিকট গ্রহণযোগ্য। কাজেই লেখকের আমলও ঐরূপ হওয়া উচিত। কিন্তু তিনি ‘ফজর ছালাতের সঠিক সময়’ শিরোনামের অধীনে যেসব হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়েছেন সেগুলোর সবই যেহেতু তাগলীস বিল ফাজরের প্রবক্তাগণ তাঁদের মতের সপক্ষে দলীল হিসাবে উপস্থাপন করে থাকেন সেহেতু আমরা ধরে নিতে পারি যে, তিনি শায়খ আলবানীর তাকলীদ না করে এক্ষেত্রে এই মতই পোষণ করেন যে, ফজরের সালাত অন্ধকারে শুরু করে অন্ধকারেই শেষ করা মুস্তাহাব।

এর পক্ষে তিনি প্রথম যে হাদীসটি এনেছেন তা হযরত আয়েশা রা. কর্তৃক বর্ণিত। হাদীসটি এই-

عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : إِنْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَيُصَلِّي الصُّبْحَ فَيَنْصَرِفُ النِّسَاءُ مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ مَا يُعْرَفْنَ مِنَ الْغَلَسِ

আয়েশা রা. বলেন, রাসূল (ছাঃ) ফজরের সালাত আদায় করতেন। অতঃপর মহিলারা চাদর মুড়ি দিয়ে ঘরে ফিরত। কিন্তু অন্ধকারের কারণে তাদেরকে চেনা যেত না।

আয়েশা রা. -এর এই একটি হাদীসকেই লেখক তিনবার এনেছেন তিনটি নম্বর লাগিয়ে। এটা একটা বড় বিপদ। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে একাধিক কিতাবে বর্ণিত কিংবা একাধিক সনদে বর্ণিত একই হাদীসকে স্বতন্ত্র হাদীস হিসাবে উল্লেখ করে দেখানো যে, আমাদের পক্ষে এত এত হাদীস রয়েছে। অথচ হাদীস মাত্র একটিই।

যাকগে সে কথা। আসল কথায় আসি। আয়েশা রা. -এর হাদীসটি সম্পর্কে ইসফার বিল ফাজরের প্রবক্তাগণের বক্তব্য হল, হযরত আয়েশা রাঃ -এর বক্তব্য আসলে مايعرفن পর্যন্ত। অর্থাৎ হযরত আয়েশা রা. বলেছেন, ‘অতঃপর মহিলারা চাদর মুড়ি দিয়ে ঘরে ফিরে যেত, তাদেরকে চেনা যেত না।’ তাঁদের দাবি হল, হযরত আয়েশা রা. বলতে চাচ্ছেন যে, মহিলারা ফজরের সালাতে যখন আসত তখনও তারা পর্দার প্রতি কঠোর যত্নবান থাকত ফলে তারা যখন ফিরে যেত তখন তাদেরকে চাদর মুড়ি দেওয়া অবস্থায় থাকার কারণে চেনা যেত না। অর্থাৎ তাদেরকে না চেনার কারণ ছিল চাদর মুড়ি দেওয়া। অন্ধকার নয়। কিন্তু তাঁদের বিরূদ্ধে তখন প্রশ্ন দাঁড়ায় যে, হাদীসে তো স্পষ্ট বলা হয়েছে, من الغلس বা অন্ধকারের কারণে। তাঁরা বলেন যে, من الغلس বা ‘অন্ধকারের কারণে’ কথাটি হযরত আয়েশার নয়। বরং তা কোনো রাবীর সংযোজন, হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষায় যাকে বলা হয় ইদরাজ এবং সংযোজিত অংশকে বলা হয় مُدرَجٌ مِنَ الرَّاوِىْ (মুদরাজ মিনার রাবী)। তাঁদের এই দাবির পক্ষে হাদীস থেকেই শক্তিশালী প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায়। কারণ, সুনানে ইব্ন মাজায় হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে এইভাবে।

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ عُرْوَةَ ، عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كُنَّ نِسَاءُ الْمُؤْمِنَاتِ ، يُصَلِّينَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ صَلاَةَ الصُّبْحِ ، ثُمَّ يَرْجِعْنَ إِلَى أَهْلِهِنَّ ، فَلاَ يَعْرِفُهُنَّ أَحَدٌ ، تَعْنِي مِنَ الْغَلَسِ.

অর্থ: হযরত আয়েশা বলেন, মুমিন নারীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংগে ফজরের সালাত আদায় করত অতঃপর তারা তাদের ঘরে ফিরে যেত, তাদেরকে কেউ চিনত না। তিনি (হযরত আয়েশা রা.) বোঝাতে চাচ্ছেন, অন্ধকারের কারণে।

হাদীসটির সনদ অত্যন্ত শক্তিশালী। হাদীসটিতে تعنى শব্দটি আমাদেরকে জানান দিচ্ছে যে, من الغلس শব্দটি হযরত আয়েশার নয়। কারণ, تعنى বা ‘তিনি বোঝাতে চাচ্ছেন’ কথাটি হযরত আয়েশার হতে পারে না। হযরত আয়েশার হলে শব্দটি হত أعنى অর্থাৎ আমি বোঝাতে চাচ্ছি, অথবা এই জাতীয় কোনো শব্দই থাকত না। আসলে হযরত আয়েশা রা. এতটুকু পর্যন্ত বলেছেন, مَا يُعْرَفْنَ বা فَلَا يَعْرِفُهُنَّ أَحَدٌ (তাদেরকে চেনা যেত না বা তাদেরকে কেউ চিনত না)। পরবর্তী কোন রাবী মনে করেছেন যে, না চেনার কারণ হল, অন্ধকার। তাই তিনি ব্যাখ্যা করে বলে দিয়েছেন, হযরত আয়েশা বোঝাতে চাচ্ছেন, অন্ধকারের কারণে। এরপর আরও পরের কোন রাবী تعنى (তিনি বোঝাতে চাচ্ছেন) শব্দটিকে বাদ দিয়ে من الغلس শব্দটিকে রেখে হাদীস বর্ণনা করেছেন। ফলে হয়ে গিয়েছে ما يعرفن من الغلس ।

 

পরবর্তী অংশসমূহ:
জাল হাদীসের কবলে রাসূলের সালাত নাকি মুযাফ্ফরের কবলে-৫
জাল হাদীসের কবলে রাসূলের সালাত নাকি মুযাফ্ফরের কবলে-৬
জাল হাদীসের কবলে রাসূলের সালাত নাকি মুযাফ্ফরের কবলে-৭
জাল হাদীসের কবলে রাসূলের সালাত নাকি মুযাফ্ফরের কবলে-৮
জাল হাদীসের কবলে রাসূলের সালাত নাকি মুযাফ্ফরের কবলে-৯
জাল হাদীসের কবলে রাসূলের সালাত নাকি মুযাফ্ফরের কবলে-১০

1 Comment

  1. Pingback: জাল হাদীসের কবলে রাসূলের সালাত নাকি মুযাফ্ফরের কবলে-২ - ইসলাম বার্তা

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE