সকাল-সন্ধ্যার কিছু যিকির -দুআ : অশেষ নেকী হাসিল করুন : আসমানী সুরক্ষা লাভ করুন

সকাল-সন্ধ্যার কিছু যিকির -দুআ

১. হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে সকালে দশবার বলে

لا إلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ ؛ وَلَهُ الحَمْدُ ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

(অর্থ, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। তাঁরই রাজত্ব, প্রশংসা তাঁরই, আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাশালী।) এর বিনিময়ে তার আমলনামায় একশত নেকি লিখে দেওয়া হয় এবং একশ গোনাহ মুছে দেওয়া হয়। আর এ বাক্যগুলো একটি গোলাম আযাদ করার সমতুল্য এবং এর দ্বারা ঐদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে হেফাযত করা হয়। আর সন্ধ্যায় যে এ বাক্যগুলো বলে তারও অনুরূপ প্রাপ্য হয়। -মুসনাদে আহমাদ, ২/৩৬০ হাদীস ৮৭১৯

ফায়েদা : সুতরাং হাদীসে উল্লেখিত বাক্যগুলো ফজরের নামাজের পর দশবার ও মাগরিবের নামাযের পর দশবার পাঠ করি। এতে যেমন অশেষ নেকী হাসিল হবে তেমনি আল্লাহর পক্ষ হতে সুরক্ষাও পাওয়া যাবে।

২. আব্দুল্লাহ ইবনে খুবাইব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক বর্ষণমুখর অন্ধকার রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুঁজতে বের হলাম যেন তিনি আমাদের নিয়ে নামায পড়েন। তাঁর সাথে যখন সাক্ষাৎ হল তিনি বললেন, ‘قل’ বল। আমি নিশ্চুপ রইলাম। তিনি আবার বললেন, ‘قل ’ বল। আমি নিশ্চুপ রইলাম। তিনি আবার বললেন, ‘قل’ বল। আমি আরজ করলাম, আল্লাহর রাসূল! কী বলব? তিনি বললেন

قل هو اللَّه أحد ، والمعوذتين حين تمسي وحين تصبح ، ثلاث مرات تكفيك من كل شيء

‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ ও ‘মুয়াওয়াযাতাইন’ সন্ধ্যায় ও সকালে, তিনবার। এ (সূরাগুলো) সব কিছু থেকে তোমার হেফাযতের জন্য যথেষ্ট হবে। -মুসনাদে আহমাদ ৫/৩১২; সুনানে আবু দাউদ, আদব অধ্যায়; হাদীস ৫০৮২; জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৫৭৫

ফায়েদা : এ হাদীসে পাওয়া গেল যে, সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করা সকল অনিষ্ট ও বিপদাপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়।

৩. আব্দুল্লাহ ইবনে গাননাম আলবায়াযী রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে সকালে বলে-

اللَّهُمَّ مَا أَصْبَحَ بِي مِنْ نِعْمَةٍ أَوْ بِأَحَدٍ مِنْ خَلْقِكَ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لا شَرِيكَ لَكَ ، لَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ

(অর্থ, ইয়া আল্লাহ! এই সকালে আমার মাঝে বা আপনার যে কোনো সৃষ্টির মাঝে যা কিছু নেয়ামত, সব আপনারই তরফ থেকে। আপনি একক, আপনার কোনো শরীক নেই। সুতরাং আপনারই হামদ, আপনারই শোকর।)

সে তার এ দিনের শোকর আদায় করল। আর যে সন্ধ্যায় (এ কথাগুলো) বলল সে ঐ রাতের শোকর আদায় করল। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫০৭৩; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস ২৩৬১; আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলা, ইবনুস সুন্নী ৪২

ফায়েদা : সন্ধ্যায় এ দু্আয় ‘مَا أَصْبَحَ بِي’-এর স্থলে বলতে হবে ‘ما أَمسى بي’ বাকী দুআ অভিন্ন। অর্থাৎ,

اللَّهُمَّ مَا أَمسى بِي مِنْ نِعْمَةٍ أَوْ بِأَحَدٍ مِنْ خَلْقِكَ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لا شَرِيكَ لَكَ ، لَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ

অর্থ. ইয়া আল্লাহ! এই সন্ধ্যায় আমার মাঝে বা আপনার যে কোনো সৃষ্টির মাঝে যা কিছু নেয়ামত, সব আপনারই তরফ থেকে। আপনি একক, আপনার কোনো শরীক নেই। সুতরাং আপনারই হামদ, আপনারই শোকর।)

-ইবনে নসীব

1 Comment

  1. abdullah

    jazakAllaahu khairan, অত্যন্ত মুফীদ।

    Reply

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE