ইসলামে ফতোয়া দেয়া কার জন্য জাযেজ

সম্প্রতি ৯ নভেম্বর ২০০৪ সালে আম্মানে ইসলামী স্কোলারদের একটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এখানে বিশ্বের প্রায় পঞ্চাশটি দেশের ২০০ স্বোলারের নিকট তিনটি বিষয়ে তাদের ফতোয়া বা মতামত চাওয়া হয়। আম্মান ম্যাসেজ সম্পর্কে উইকিপিডিয়ার সংক্ষিপ্ত বিবরণ,

The Amman Message (Arabic: رسالة عمان‎) is a statement which was issued on 9 November 2004 (27th of Ramadan 1425 AH) by King Abdullah II bin Al-Hussein of Jordan, calling for tolerance and unity in the Muslim world.[1] Subsequently, a three-point ruling was issued by 200 Islamic scholars from over 50 countries, focusing on issues of: defining who a Muslim is; excommunication from Islam (takfir), and; principles related to delivering religious edicts (fatāwa).

http://en.wikipedia.org/wiki/Amman_Message

 

আমাদের আলোচনা এই অধিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ তৃতীয় বিষয় সম্পর্কে। অর্থাৎ principles related to delivering religious edicts (fatāwa), ইসলামে ফতোয়া দেয়া কার জন্য জাযেজ?

 

এ অধিবেশনে যে তিনটি প্রশ্ন করা হয়, তন্মধ্যে তৃতীয় প্রশ্নটি হল,

من يجوز أن يعتبر مفتيا في الإسلام؟ وما هي المؤهلات الأساسية لمن يتصدى للفتوى وهداية الناس الى أحكام الشريعة الإسلامية وتعريفهم بها؟

অর্থাৎ ইসলামে কে মুফতী হতে পারবেন? এবং মৌলিক কি কি বিষয়ে যোগ্যতা অর্জন করলে কেউ মানুষকে শরীয়তের বিধি-বিধানের ব্যাপারে নির্দেশনা ও ফতোয়া প্রদানে সক্ষম হবে?

 

এ বিষয়ে অনেক স্কোলার তাদের ফতোয়া উল্রেখ করেছেন। আমারা এখানে ও.আই,সির ফেকাহ একাডেমীর পক্ষ থেকে দেয়া উত্তরটি উল্লেখ করছি।

সম্পূর্ণ ফতোয়ার লিংক:

http://ammanmessage.com/index.php?option=com_content&task=view&id=75&Itemid=42

 

প্রথম পৃষ্ঠার স্ক্রিনশট:

 

 

 

জেদ্দাস্থ ও. আই. সি. এর ইসলামিক ফিকহ একাডেমী যে উত্তর প্রদান করেছে, সেটি নিচে উল্লেখ করা হল ,

ولـه مكانة عالية مهمة، فهو وارث علم النبي(ص)، وموقّع عن رب العالمين(عزوجل)، يبين أحكامه ويطبقها على أفعال الناس؛ لأنه يعتبر من أهل الذكر الذين أمر الله بالرجوع إليهم حيث قال جل شأنه: (فأسألوا أهل الذكر إن كنتم لا تعلمون((২).

ولما كانت للمفتي هذه المكانة وتلك المنزلة اشترط العلماء فيمن يتعرض للإفتاء أن تتوافر فيه شروط المجتهد، وأن يتصف بصفات ويتخلق بآداب منها مايلي:

 

“ইসলামে মুফতীর গুরুত্ব অপরিসীম। সে হল রাসূল (সঃ) এর ইলমের উত্তরসূরী এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নিযুক্ত প্রতিনিধি। সে আল্লাহর বিধি-বিধানের ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং সেটিকে মানুষের অবস্থা ও কাজের জন্য আমলযোগ্য করে তোলে। মুফতীকে “আহলুয যিকির” এর অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে, যাদের নিকট জিজ্ঞাসার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-

“ জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে”

“মুফতীর সুউচ্চ মর্যাদা ও গুরুত্বের কারণে উলামায়ে কেরাম মুফতীর মাঝে মুজতাহিদের শর্তসমূহের উপস্থিতিকে অপরিহার্য করেছেন এবং তাঁর মাঝে নি¤œবর্ণিত গুণাবলী থাকা আবশ্যক-

এক.

أولاً: أن يكون مسلماً، مكلفاً، عدلاً، ثقة، مأموناً، ورعاً، تقياً، غير مبتدع في الدين، متنزهاً عن أسباب الفسق ومسقطات المروءة: لأن من لم يكن كذلك فقوله غير صالح للاعتماد، وخبر الفاسق لا يقبل.

 

“মুসলমান, মুকাল্লাফ (বালেগ ও বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়া), ন্যায়পরায়ণ, বিশ্বস্ত (সিকা), আমনতদার, পরহেযগার, মুত্তাকী হওয়া। এবং দ্বীনি বিষয়ে বিদআতী না হওয়া, পাপাচার ও অশালীন কাজ থেকে বিরত থাকা অর্থাৎ ফাসেক ও অসভ্য না হওয়া। কেননা কারও মাঝে যদি উল্লেখিত শর্তগুলো না থাকে, তবে কোনভাবেই তার কথা নির্ভরযোগ্য নয়। কেননা ইসলামে ফাসেকের কোন বক্তব্যও গ্রহণযোগ্য নয়।”

 

দুই.

ثانياً: أن لا يكون متساهلا في فتواه، لأن من عرف بالتساهل فيها لم يجز أن يُستفتى، ولأن من واجب المفتي أن لا يدلي برأيه إلا بعد استيفاء الموضوع حقه من النظر والدرس. ورد في سنن الدارمي مرفوعا ، قال رسول الله(ص): ্রأجرؤكم على الفتيا أجرؤكم على النارগ্ধ.

 

ফতোয়ার ব্যাপারে বেপরোয়া এবং উদাসীন না হওয়া। কেননা যে ফতোয়ার ব্যাপারে বেপরোয়া, তার জন্য ফতোয়া দেয়া জায়েয নয়। কেননা মুফতীর জন্য আবশ্যক হল যে, সে বিষয়টি সম্পর্কে পূর্ণ অধ্যয়ন ও সম্যক ধারণা লাভের পূর্বে কোন ফতোয়া প্রদানে অগ্রসর হবে না। রাসূল (সঃ) এর হাদীসে রয়েছে-

“তোমার মাঝে যে ফতোয়া প্রদানে সাহস দেখাল, সে যেন জাহান্নামের ব্যাপারে দুঃসাহস দেখাল”

 

তিন.

ثالثاً: أن يكون فقيه النفس، سليم الذهن، رصين الفكر، صريح القول، واضح العبارة، صحيح التصرف والاستنباط، فطنا مدركا لوقائع الأمور في شتى نواحي الحياة.

“প্রত্যুৎপন্ন ফকীহ হওয়া। সাথে সাথে সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন সঠিক চিন্তা-ধারার অধিকারী এবং দ্ব্যর্থহীন ও স্পষ্টভাষী হওয়া। মাসআলা আহরণ এবং গবেষণার ক্ষেত্রে যথার্থ পদ্ধতি অনুসরণ করা। জীবনের বিভিন্ন দিক এবং বিভিন্ন ঘটনা গভীর ও তিক্ষ্ম দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ ও উপলব্ধি করা।”

رابعاً: أن يكون عارفا باللغة العربية، وموارد الكلام ومصادرها بما يمكنه من فهم مراد الله عزوجل ومراد رسوله(ص) في خطابيهما، فإن اللغة العربية هي الذريعة لمدارك الشريعة.

 

চার.

আরবী ভাষা সম্পর্কে পূর্ণ অবগত হওয়া। এবং আরবী ভাষার প্রয়োগক্ষেত্র ও তার উৎস সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অধিকারী হওয়া; যেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ) এর বক্তব্য ও বাচনশৈলী সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করতে পারে। কেননা শরীয়তকে সঠিকভাবে আয়ত্ব করার মাধ্যম হল আরবী ভাষা।

 

পাঁচ.

خامساً: العلم بكتاب الله(ص) على الوجه الذي تتضح به معرفة ما تضمنه من الأحكام؛ من محكم، ومتشابه، وعموم، وخصوص ومجمل، ومفسر، وناسخ، ومنسوخ.

 

“পবিত্র কুরআনের উপর এই পরিমাণ ব্যুৎপত্তি অর্জন করা, যার মাধ্যমে কুরআনে বর্ণিত বিধি-বিধান সমূহ সম্পর্কে অবগত হতে পারে। অর্থাৎ কুরআনের মুহকাম, মোতাশাবেহ, আম, খাস, মুজমাল, মুফাসসার এবং নাসেখ-মানসুখ সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করা।

 

ছয়.

سادساً: العلم بسنة رسول الله(ص) الثابتة من أقواله، وأفعاله، وطرق ورودها من التواتر والآحاد والصحة والفساد، وحال الرواة، من تعديل وتجريح.

 

“রাসূল (সঃ) এর প্রমাণিত সুন্নাহের ব্যাপারে পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করা। রাসূল (সঃ) থেকে বর্ণিত বিষয় সমূহ, তাঁর কাজ ও বক্তব্য এবং এগুলো বর্ণনার পরম্পরা সম্পর্কে অবগত হওয়া। অর্থাৎ কোন হাদীসটি মুতাওয়াতির, কোনটি খবরে ওয়াহেদ, কোন সহীহ কিংবা যয়ীফ সে সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন করা। সাথে সাথে বর্ণনাকারীদের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা।”

سابعا: معرفة مذاهب الفقهاء المتقدمين فيما أجمعوا عليه، واختلفوا فيه، ليتبع الأحكام ، ولا يفتي بخلاف ما أجمعوا عليه، ويجتهد رأيه فيما اختلفوا فيه.

 

“পূর্ববর্তী ফকীহগণের মাযহাব সম্পর্কে অবগত হওয়া। অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে তাদের মাঝে ইজমা হয়েছে এবং কোন কোন বিষয়ে তারা মতপার্থক্য করেছেন সেগুলোর ব্যাপারে অবগত থাকা; যেন এর আলোকে সে ফতোয়া দিতে পারে এবং ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়ের বিপরীত সে কোন ফতোয়া দিবে না এবং মতভেদপূর্ণ বিষয়ে সে ইজতেহাদ করবে।”

 

আট.

ثامناً: معرفة القياس وطرق العلة والاجتهاد؛ ليرد الفروع الى اصولها، ويجد الطريق الى العلم بأحكام النوازل.

 

“ক্বিয়াস, ইল্লত ও ইজতেহাদের পদ্ধতি সমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া। যেন শাখাগত মাসআলা-মাসাইল ও উদ্ভুত সমস্যার ক্ষেত্রে মৌলিক উৎসের আলোকে এর সমাধান দিতে পারে।”

 

নয়.

تاسعاً: أن يكون متأدبا بالآداب التي رسمها الفقهاء لمن يمارس الإفتاء، ومنها : أن لا يفتي وهو في غضب أو خوف أو جوع أو شغل قلب أو مدافعة للأخبثين لئلا يخرج عن حالة الاعتدال وكمال التثبت، وأن يتحرى الحكم بما يرضي ربه، ويجعل نصب عينيه قولـه تعالى: (وأن احكم بينهم بما أنزل الله ولا تتَّبع أهواءهم وأحذرهم أن يفتنوك عن بعض ما أنزل الله إليك((৩).

 

“মুফতীর জন্য যে সমস্ত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও আদব অর্জন আবশ্যক, সেগুলো অর্জন করা। অর্থাৎ

১.     ক্রোধ, ভয়, ক্ষুধা, মানসিক চিন্তা, প্রাকৃতিক চাহিদা থাকা অবস্থায় সে কোন ফতোয়া প্রদান করবে না; যেন সে পূর্ণ স্থিরতা ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা থেকে বিচ্যুত না হয়। এবং বিধি-বিধান আহরণে আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং তাঁর দৃষ্টি থাকবে পবিত্র কুরআনের নি¤œবর্ণিত আয়াতের দিকে-

 

وأن احكم بينهم بما أنزل الله ولا تتَّبع أهواءهم وأحذرهم أن يفتنوك عن بعض ما أنزل الله إليك

“ আর আমি আদেশ করছি যে, আপনি তাদের পার¯পরিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ্ যা নাযিল করেছেন তদনুযায়ী ফয়সালা করুন; তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না” [সূরা মায়েদা, আয়াত নং৪৯]

وأن لا يفتي بالحيل المحرمة أو المكروهة، وأن لا يبتغي بفتواه مصالح دنيوية من جر مغنم أو دفع مغرم، وأن لا يحابي في فتواه فيفتي بالرخص من أراد نفعه.

২.    হারাম বা মাকরুহ হিলার মাধ্যমে কোন ফতোয়া প্রদান না করা। মুফতী ফতোয়ার ক্ষেত্রে পার্থিব কোন কল্যাণ-অকল্যাণের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবে না।এবং এক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব করবে না অর্থাৎ কারও উপকারের লক্ষ্যে শিথিল বিষয়ের উপর ফতোয়া প্রদান করবে না।

 

وأن يكون متهيبا للإفتاء، لا يتجرأ عليه إلا حيث يكون الحكم جليا واضحا، أما فيما عدا ذلك فعليه أن يتثبت ويتريث حتى يتضح له وجه الجواب، فإن لم يتضح له الجواب وأفتى يكون قد أفتى بغير علم، والإفتاء بغير علم كذب على الله ورسوله وكبيرة من الكبائر، لقوله تعالى: (قل إنّما حرّم ربّي الفواحش ما ظهر منها وما بطن والإثم والبغي بغير الحق وأن تشركوا بالله ما لم ينزّل به سلطاناً وأن تقولوا على الله مالا تعلمون.ومن أجل ذلك كثر النقل عن السلف إذا سئل أحدهم عما لا يعلم أن يقول للسائل: لا أدري.

 

“ফতোয়ার ব্যাপারে যারপর নাই সতর্ক হওয়া এবং কোন হুকুম সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন না হওয়া পর্যন্ত কোন ফতোয়া প্রদান করবে না। নতুবা তার জন্য এ বিষয়ে পূর্ণ অনুসন্ধান ও স্থিরতা আবশ্যক যতক্ষণ না বিষয়টি তার নিকট বিষয় পূর্ণ বিকশিত না হয়। বিষয়টি সুস্পষ্ট হওয়ার পূর্বেই যদি সে ফতোয়া প্রদান করে, তবে সে অজ্ঞতাবশতঃ ফতোয়া দিল। আর অজ্ঞতাবশতঃ ফতোয়া প্রদান হল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ) এর উপর মিথ্যারোপ এবং এটি বড় বড় কবীরা গোনাহের অন্যতম। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন-

“আপনি বলে দিন: আমার পালনকর্তা কেবলমাত্র অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য এবং হারাম করেছেন গোনাহ, অন্যায়-অত্যাচার আল্লাহ্র সাথে এমন বস্তুকে অংশীদার করা, তিনি যার কোন সনদ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহ্র প্রতি এমন কথা আরোপ করা, যা তোমরা জান না।”

 

এজন্য পূর্ববর্তী উলামায়ে কেরামের থেকে এধরণের অসংখ্য ঘটনা বর্ণিত আছে যে, যখন তাদের অজানা কোন বিষয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, তখন তারা বলে দিয়েছেন-“ আমি জানি না”

 أن يكون دارسا للفقه دراسة واسعة، متسماً بالاعتدال والوسطية، متمرسا في فهم مسائل الفقه المذكورة في الكتب، ويكون ذا باع في دراسة قضايا الفقه الجزئية.

 

৩.    ফিকহ শাস্ত্রে ব্যাপক ও দীর্ঘ অধ্যয়ন করা এবং মধ্যম পন্থা ও ভারসাম্যের উপর অটল থাকা। ফিকহের কিতাবসমূহে লিখিত মাসআলা-মাসাইল অনুশীলন করা এবং শাখাগত মাসআলা-মাসাইলের সমাধান প্রদানে সিদ্ধহস্ত হওয়া।

وأن يكون محيطاً بأكثر ما صدر من فتاوى وأحكام في موضوع فتواه، معتمداً على ما كتبه المحققون من الفقهاء والمفتين. وعليه أن يأخذ بما يترجح لديه من أحكام بالشروط المعتبرة في الاجتهاد الفقهي، بحسب الدليل دون الأخذ بالأقوال الضعيفة غير المعتبرة أو الشاذة.

 

৪.    ফতোয়া প্রদান করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রকাশিত ফতোয়া সমূহ সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন করা। এবং এক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য মুফতী এবং বিশ্লেষক আলেমগণের লিখিত ফতোয়ার কিতাবসমূহের উপর নির্ভর করা। ফিকহ শাস্ত্রে ইজতেহাদের শর্ত অনুযায়ী দলিলের আলোকে কোন মাসআলাকে প্রাধান্য দিয়ে সেটা গ্রহণ করা বৈধ হবে কিন্তু তার পক্ষে কোন দূর্বল কিংবা কোন বিরল বক্তব্য গ্রহণ করা বৈধ নয়।

 

وأن يراعي المقاصد الشرعية والقواعد الفقهية والفروق بين المسائل الجزئية، كما يراعي المآلات.أن يكون عارفاً بالكتب المعتمدة في المذاهب الفقهية ومصطلحاتها، فهي مفاتيح لفهم النصوص الفقهية.

 

৫.    মাকাসেদে শরইয়্যাহ তথা শরীয়তের চাহিদা ও উদ্দেশ্য, ফিকহের মূলনীতি সমূহ এবং বিভিন্ন মাসআলার মাঝে মৌলিক তারতম্যের ব্যাপারে যতœশীল হওয়া। ফিকহ শাস্ত্রের গ্রহণযোগ্য কিতাব সমূহ এবং ফিকহের পরিভাষা সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান অর্জন  করা। কেননা এগুলো হল, ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়নের মূল চাবিকাঠি।

 

والحرص على الالتزام بهذا وتطبيقه في السير على المنهج الإلهي وحماية المؤمنين من الحرج والخطأ فيما يصدر عن غير المفتيين المتثبتين هو القصد الأساسي من كل هذه الشروط.

 

৬.    উপরোক্ত বিষয়গুলি অর্জন করে আল্লাহ প্রদত্ত জীবন  ব্যবস্থা অনুযায়ী সেগুলো বাস্তবায়ন করা। এবং মানুষকে ভুল ও সমস্যাপূর্ণ বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান প্রদান করা। আর এটি ফিকহের একটি মৌলিক উদ্দেশ্য।

 

বিজ্ঞ পাঠক! বর্তমান সময়ে যারা স্বশিক্ষিত মুফতী রয়েছেন, তাদের ক’জনের মাঝে উল্লেখিত শর্ত সমূহের কতটি পাওয়া সম্ভব? অনেকের ক্ষেত্রে হয়ত একটিও পাওয়া যাবে না, তবুও তারা ইসলামের বিষয়ে অবলীলায় মতামত পেশ করে থাকেন! আল্লাহ আমাদেরকে হিফাজত করুন!

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE