নবী ও ওলিদের এলহাম এর পার্থক্য

এলহাম আল্লাহ পক্ষ থেকে সংবাদ আসার একটি পদ্ধতি। আমরা সবাই জানি আল্লাহ যুগে যুগে যত নবী পাঠিয়েছেন আদের কাছে ওহি প্রেরণ করেছেন। আর এই ওহি আসার একটি মাধ্যম হলো এলহাম।এই কথা সর্বজন স্বীকৃত যে আল্লাহ তাআলা নবী/রাসুলদের কাছে এলহাম করেন। এছাড়াও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকীদা মতে উম্মদে মুহাম্মাদীর মধ্যে আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদের উপরও এহলাম করে থাকেন। কেননা উম্মতে মুহাম্মদী অন্য সকল উম্মত থেকে শ্রেষ্ঠ। তাদের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট ও মর্যাদা আল্লাহর কাছে আছে। কিন্তু এই এহলাম নিয়ে আমাদের সমাজে নানান ধরনের বিতর্ক রয়েছে।
এইসকল বিতর্কের মধ্যে একটি হলো যদি উম্মতে  মুহাম্মদীর উপর এহলাম হয়ে থাকে তবে তার আর নবীর মধ্যে পার্থক্য কি?
যেহেতু এলহাম আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় তাই তা ভূল হওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই। এহলাম হওয়ার পরও আলেম  ভূল করেন কেন? তাহলে কি আল্লাহ ভূল তথ্য দিয়েছেন? (নাউজুবিল্লাহ)

এই বিষয়ে দারুল উলুম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম “কাছেম নানুতুবি রহ. এর” একটি ঘটনা রয়েছে যার মাধ্যমে আমাদের নিকট পরিস্কার হয়ে যাবে নবী ও ওলিদের (আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের)  এলহামের পার্থক্য কি।

একবার কাছেম নানুতুবি রহ. তার সাথীদের নিয়ে কোন এক কাজে জেলের নিকে যাচ্ছিলেন। পথি মধ্যে এক মুরিদ প্রশ্ন করে বসলো হুজুর, এলহামতো আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়।
কাছেম নানুতুবি বল্লেন হ্যা এলহাম আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়।
তখন মুরিদ আবার প্রশ্ন করলো আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তো সঠিক।
কাছেম নানুতুবি বল্লেন আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়া প্রতিটা কথা সঠিক।
তখন মুরিদ প্রশ্ন করে বসলো তাহলে নবীদের কাছে যে এলহাম আসতো তা ১০০% হলেও আল্লাহর ওলিদের ক্ষেত্রে অনেক সময় ভুল হতে দেখা যায়, কেন? নবী ও ওলিদের এলহামের মধ্যে পার্খক্য কোথায়?
এই কথা শুনে কাছেম নানুতুবি রহ. আর কোন কথা বললেন না্। কিছুদুর যাওয়ার পর হঠাৎ করে উনি দাড়িয়ে যান এবং ঐ মুরিদকে প্রশ্ন করেন, এইখান থেকে জেলগেট কত দুরে?
উত্তরে মুরিদ বলেন, ৪০০-৫০০ কদম হবে।
তখন কাছেম নানুতুবি রহ. আবার প্রশ্ন করেন ঠিক ঠিক ৪০০-৫০০ কদম হবে নাকি কম বেশী হতে পারে।
উত্তরে মুরিদ বলে কম বেশী হতে পারে।
এরপর উভয়ে আবার হাটা শুরু করেন। এবং কিছুদুর যাওয়ার পর আবার কাছেম নানুতুবি রহ. দাড়িয়ে যান।
আবার সেই মুরিদকে প্রশ্ন করেন এইখান থেকে জেলগেট কত দূরে।
উত্তরে মুরিদ বলেন ৪-৫ কদম হবে।
আবার কাছেম নানুতুবি রহ. প্র্রশ্ন করেন ঠিক ঠিক ৪-৫ কদম হবে নাকি কম বেশী হবে?
উত্তরে সেই ব্যক্তি বলে ঠিক ঠিক ৪-৫ কদম হবে।
তখন কাছেম নানুতুবি রহ. বলেন এই হলো নবী ও ওলীর এলহামের পার্থক্য।
একজন নবীকে আল্লাহ যা দেখান তা সরাসরি খুব কাছ থেকে দেখান। তাই তা ১০০% সঠিক হয় এবং মিলে যায়। কিন্তু একজন ওলিকে যখন কিছু দেখান তখন তা হয় অস্পষ্ট ও ঝাপসা, তাই অনেক সময় দেখা যায় ওলীদের কথা ভূল বা মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

তার মানে এই না যে আল্লাহর এলহাম ভূল বা মিথ্যা। আশা করি আমাদের মনের মধ্যে এই বিষয়ে সন্দেহ ছিল তা দুর হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE